আহাদ আলী নয়ন:
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক (ইংরেজি) মোঃ নাহারুল ইসলাম (৪২) এর বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি ও শ্লীলতাহানির অভিযোগ ফুঁসে উঠেছে অভিভাবকসহ শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষক নাহারুল ইসলামকে আটক করেছে। এলাকাবাসি ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, দৌলতপুর উপজেলার আল্লারদর্গা বাজারের পার্শ্ববর্তী হলুদবাড়িয়া গ্রামের মৃত- ছহির উদ্দীনের ছেলে ও আল্লারদর্গা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ আশরাফুল ইসলামের ছোটভাই নাহারুল ইসলাম আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই স্থানীয় প্রভাব খাটিয়ে স্কুলের অন্যান্য সিনিয়র শিক্ষক ও অন্যান্য ষ্টাফদের সহিত খারাপ আচরণ করে বিভিন্ন অনৈতিক কাজ চালিয়ে আসছিল। ক্লাসে ইংরেজি পড়ানোর সুবাদে এই লম্পট শিক্ষক নাহারুল ইসলাম ছাত্রীদের পরীক্ষায় পাস করে দেওয়াসহ বিভিন্ন কৌশলে একর পর এক ছাত্রীদের শ্লীলতাহানি করে। ঘটনার ৩দিন আগে ঐ শিক্ষক নাহারুল ইসলাম আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের নবম শ্রেনির এক প্রাইভেট ছাত্রীকে কৌশলে বাড়িতে ডেকে নেয়। ঐ দিন লম্পট শিক্ষক নাহারুলের স্ত্রী বাড়িতে না থাকায় সে ঐ প্রাইভেট ছাত্রীকে কু-প্রস্তাব দেয় এবং জোরপূর্বক ঐ ছাত্রীর শ্লীলতাহানির চেষ্টা করে। পরে ভুক্তভোগি শিক্ষার্থী স্কুলে এসে তার সহপাঠিদের বিষয়টি জানালে, স্কুলের ছাত্র,ছাত্রীরা আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুল ইসলামের কাছে অভিযুক্ত শিক্ষক নাহারুল ইসলামকে অপসারণ সহ দৃষ্টান্তমুলক শাস্তির দাবী করে বিক্ষোভ করে। এব্যাপারে আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুল ইসলাম জানান, গত তিনদিন আগে স্কুলের শিক্ষার্থীরা আমার কাছে শিক্ষক নাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীর শ্লীলতাহানির অভিযোগ দিয়েছে। আমি বিষয়টি সাথে সাথে ম্যানেজিং কমিটিকে জানিয়েছি। প্রধান শিক্ষক মোঃ কামরুল ইসলাম আরও জানান, ইতিপূর্বে ও অভিযুক্ত শিক্ষক নাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে একাধিক ছাত্রীকে যৌন হয়রানি সহ শ্লীলতাহানির অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীরা শিক্ষার্থী ও অভিভাবকরা জানান, অভিযোগ দেওয়ার ৩দিন পেরিয়ে গেলেও স্কুল কর্তৃপক্ষ কোন ব্যবস্থা না নেওয়ায় তারা আজ বুধবার ঐ লম্পট শিক্ষক নাহারুল ইসলামকে অপসারণ,আটক ও শাস্তির দাবীতে ক্লাস বর্জন করে আন্দোলন করতে থাকে। পরে স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ ও পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রনে আনে। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের আন্দোলনের মুখে পুলিশ ঐ লম্পট শিক্ষক নাহারুলকে আটক করে। অভিযক্ত ঐ লম্পটের বিরুদ্ধে আল্লারদর্গা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রায় ১৫/২০ জন ছাত্রীকে যৌনহয়রানি সহ শ্লীলতাহানির অভিযোগ পাওয়া গেছে। এছাড়াও ঐ শিক্ষকের বিরুদ্ধে স্কুল ফান্ডের অর্থ আত্বসাৎ এর অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষক নাহারুল ইসলামকে আটকের ব্যাপারে দৌলতপুর থানার অফিসার ইনচার্জ জাবীদ হাসান জানান, একাধিক অভিভাকদের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আটক শিক্ষক নাহারুল ইসলামের বিরুদ্ধে দৌলতপুর থানায় যৌন হয়রানি ও শিশু নির্যাতন আইনে মামলা হয়েছে।